চাঁদপুর, মঙ্গলবার, ২০ জুলাই ২০২১, ৫ শ্রাবন ১৪২৮, ৯ জ্বিলহজ্ব ১৪৪২
ফনেটিক ইউনিজয়
সার্চ
¦

ব্রেকিং নিউজ

চাঁদপুর জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সাথে ভার্চুয়ালি সভায়
ঢাকায় রোগী না পাঠিয়ে, স্থানীয়ভাবেই চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা রাখুন
শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি

চাঁদপুর বার্তা রিপোর্ট ॥

প্রকাশ : ২০ জুলাই, ২০২১

চাঁদপুর জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভা ১৮ জুলাই রোববার বিকেল ৩টায় করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। সভার শুরুতেই জেলা প্রশাসক চাঁদপুরের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এ সময় জেলা প্রশাসক শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়কে অবহিত করে বলেন, চাঁদপুরে করোনা পরিস্থিতি তেমন একটা উন্নতি এখনো দেখা যায়নি। আক্রান্তের হার আজ কিছুটা কমলেও আবার বেড়ে যাচ্ছে কাল। সবাই যদি সম্মিলিতভাবে এগিয়ে না আসে, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আমাদের প্রশাসনের অনেক ম্যাজিস্ট্রেট, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা আক্রান্ত হচ্ছে। পুলিশসহ বিভিন্ন দফতরের লোকজনও আক্রান্ত হচ্ছে। তারপরও আমরা রাত-দিন চেষ্টা করে যাচ্ছি একে দমাতে। প্রশাসন  কাজ করছে । তিনি বলেন, করোনা প্রতিরোধে ৮৯টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদেরকে প্রধান করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮৯টি কমিটি গঠণ করে দিয়েছি। পৌরসভাগুলোতেও কমিটি করা হয়েছে।  কিন্তু সরকারি দলের লোক হয়েও কিছু কিছু লোকজন এখনো সচেতনতামূলক কর্মকান্ডে মনে হচ্ছে উদ্বুদ্ধ হতে পারছে না। অংশনিতে চাইছে না  বরং কোনো কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি থেকে মনে হয় সরকারের কর্মকান্ডের বিপক্ষে অবস্থা নিয়েছে- এমন পোস্ট দিচ্ছে এবং সমালোচনা করছে। যা কোনোভাবেই ঠিক না। সরকার এতো কিছু করে যাচ্ছে, তাই প্রশংসা পাবে। জেলা প্রশাসক বলেন,  এ কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা তাদের পাশে পেতে চাই। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি কাজ করি, তাহলে তা হবে সুন্দর।
জেলা প্রশাসকের এ কথা শুনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, আমি আগেও বলেছি- এ ধরনের অপকর্ম বরদাস্ত করা হবে না। যারা এসব করে তাদের আইডি স্ক্রীনশর্ট করে রেখে দিন। এরা কখনো দলের কোনো কর্মী বা নেতা হতে পারে না।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন- এ ৩ জনের করোনা ছাড়াও রাষ্ট্রের অন্য কাজগুলো সম্পাদন করতে হয়। তিনি বলেন, তাদের পাশে থেকে সম্মিলিতভাবে বা নিজেরা কাজ করে যেতে হবে। প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করে দলের লোকদের কাজ করাতে হবে। এ ব্যাপারে আমি আগামীকাল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্যদের সাথে কথা বলবো।
সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্যাহ শিক্ষামন্ত্রীকে চাঁদপুরের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করে বলেন, জুলাই মাসের গত ১৮ দিনে ১৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এখন এক ঘরে একজন আক্রান্ত হলে অন্যরাও আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, আইসোলেশন ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা কম ছিল। সবগুলো হাসপাতালেই বেড বাড়িয়েছি। এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিটি হাসপাতালে কমপক্ষে আরো ২০টি বেড বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে ২৫০ শয্যার হাসপাতালের ১৫০টি বেডকেই করোনা রোগীদের চিকিৎসার্থে ছেড়ে দিতে হবে। এক্ষেত্রে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে যে সব সাধারণ রোগী ভর্তি হয়েছে, তাদেরকে অন্য বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে স্থানান্তর করার ব্যবস্থা করুন।
মন্ত্রী বলেন, আপনাদের আইসিইউ সরঞ্জামাদি এসেছে এবং অন্যসব সরঞ্জামাদি পেতে যদি দেরি হয়, তাহলে সেটি আমাকে জানান। প্রয়োজনে আমরা আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তা ব্যবস্থা করে দিবো। যা যা আপনাদের নেই, কিন্তু এখনই প্রয়োজন এবং যা যা আছে, তার একটি তালিকা আমাকে দ্রুত পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। তিনি বলেন, ঢাকায় রোগী না পাঠিয়ে স্থানীয়ভাবেই চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা রাখুন। খুব গুরুতর না হলে ঢাকা বা অন্য কোনো জায়গায় পাঠানো ঠিক না। এখন যে পরিস্থিতি এসেছে, নিজেদের স্থানে নিজেরাই ব্যবস্থাগুলো করতে হবে। শিক্ষামন্ত্রীকে জানানো হয়, অক্সিজেন প্ল্যান্ট থেকে রোগীরা ঈদের পরই অক্সিজেন পাবে। এছাড়া আবুল খায়ের গ্রুপ পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আবারো বলছি, সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। প্রশাসনকে তিনি বলেন, আগামী লকডাউনে সরকারি বিধি-নিষেধ মানাতে যতোটা কঠোর হওয়া দরকার, সেটিই আপনারা হবেন। সবমিলে সবাইকে চেষ্টা করে যেতে হবে এ মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, কোনো রকম দায়িত্বহীন কথাবার্তা সহ্য করা যাবে না। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন- এটিই আমার প্রত্যাশা।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বিপিএম (বার), চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাডঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. হাবিব উল করিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী ও প্যানেল মেয়র ফরিদা ইলিয়াছ প্রমুখ।
এছাড়া ভার্চুয়ালি এ সভায় সংযুক্ত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতিঃ ডাঃ জে আর ওয়াদুদ টিপু, প্রতিষ্ঠাতা ও প্রকাশকঃ- মোঃ সেলিম খান, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ- শহীদ পাটোয়ারী, যুগ্ম সম্পাদকঃ- জাহিদুল ইসলাম রোমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকঃ- কাজী মিজানুর রহমান, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ- মোহাম্মদ আলী মাঝি কর্তৃক ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন, চাঁদপুর থেকে প্রকাশিত এবং সিরাজ অফসেট প্রেস, কলেজ গেইট, চাঁদপুর থেকে মুদ্রিত। কার্যালয়ঃ- খান সুপার মার্কেট (২য় তলা), ঘোষপাড়া ব্রীজের পশ্চিমে, মরহুম আব্দুল করিম পাটোয়ারী সড়ক, চাঁদপুর-৩৬০০। মোবাইল- ০১৭১২-২০৫৭৪৭।